*** নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি-২০২৪ ***

প্রতিষ্ঠাতা

ডক্টর শামসুল করিম বাকার

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ফার্মাসিউটিক্যালস্‌ বিজ্ঞানী ও দানবীর

শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সমাজসেবায় নিবেদিতপ্রাণ, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ফার্মাসিউটিক্যালস্‌ বিজ্ঞানী ড. শামসুল করিম বাকার ২০০২ খ্রিষ্টাব্দে প্রত্যন্ত অঞ্চলের অবহেলিত মানুষের দোরগোড়ায় উচ্চশিক্ষার আলো পৌঁছে দেওয়ার মহৎ উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠা করেন ‘ডক্টর শামসুল করিম বাকার কলেজ’।

জন্ম ও বংশ পরিচয়

ডক্টর শামসুল করিম বাকার ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দের ২ জানুয়ারি খুলনা জেলা সদর থেকে ২৭ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে ডুমুরিয়া উপজেলার ১ নং ধামালিয়া ইউনিয়নের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম মজিদুল ইসলাম সরদার ছিলেন তৎকালীন জমিদারি শাসনামলের সর্বশেষ জমিদার এবং মাতা মরহুমা রওশন আরা বেগম ছিলেন এক রত্নগর্ভা নারী।

কৃতিত্বপূর্ণ শিক্ষা জীবন

শৈশব থেকেই অত্যন্ত মেধাবী ডক্টর শামসুল করিম বাকার তাঁর শিক্ষাজীবনের প্রতিটি স্তরেই প্রথম স্থান অধিকারের গৌরব অর্জন করেন।

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা:

তিনি ধামালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও রঘুনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। পরবর্তীতে রঘুনাথপুর বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, খুলনা পল্লী মঙ্গল ও বিকে স্কুল এবং খুলনা সেন্ট জোসেফ স্কুলে অধ্যয়ন করেন। ১৯৬৪ খ্রিষ্টাব্দে সেন্ট জোসেফ স্কুল থেকে ৪টি বিষয়ে লেটার মার্কসসহ প্রথম বিভাগে এস.এস.সি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

উচ্চ মাধ্যমিক:

ঐতিহ্যবাহী ঢাকা কলেজ থেকে ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দে ৩টি বিষয়ে লেটার মার্কসসহ প্রথম বিভাগে এইচ.এস.সি পাস করেন।

উচ্চশিক্ষা (স্নাতক ও স্নাতকোত্তর):

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগ থেকে ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দে অনার্স এবং ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দে এম.এস.সি পরীক্ষায় উভয়ক্ষেত্রেই প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান অধিকার করার অভূতপূর্ব গৌরব অর্জন করেন।

বৈদেশিক উচ্চশিক্ষা ও পিএইচডি:

১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দে মর্যাদাপূর্ণ ‘ক্যানাডিয়ান কমনওয়েলথ স্কলারশিপ’ নিয়ে কানাডার টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয় (University of Toronto) থেকে ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্সে এম.এস (MS) ডিগ্রি লাভ করেন। পরবর্তীতে আমেরিকার শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় (University of Illinois Chicago) থেকে ১৯৮১ খ্রিষ্টাব্দে একই বিষয়ে সফলতার সাথে পিএইচডি (PhD) ডিগ্রি অর্জন করেন।

কর্মজীবন ও আন্তর্জাতিক গবেষণা

ডক্টর শামসুল করিম বাকার একাধারে একজন সফল শিক্ষক, গবেষক ও বিজ্ঞানী।

১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচারার হিসেবে শিক্ষকতা জীবন শুরু করেন।

আমেরিকায় অধ্যয়নকালীন সময়ে তাঁর উচ্চমানসম্পন্ন ৪টি গবেষণা নিবন্ধ (Research Papers) আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়।

আমেরিকার বিখ্যাত ‘কোলগেট পামোলিভ রিসোর্স সেন্টারে’ (Colgate-Palmolive Research Center) বিজ্ঞানী হিসেবে যোগদান করে পরবর্তীতে ‘সিনিয়র রিসার্চ সায়েন্টিস্ট’ হিসেবে পদোন্নতি পান। তাঁর কালজয়ী গবেষণার ফলস্বরূপ বিখ্যাত কোলগেট টুথ পাউডার এবং ৪টি ইউ.এস পেটেন্ট (US Patents) আবিষ্কৃত হয়।

১৯৯৭ খ্রিষ্টাব্দ থেকে তিনি স্বাধীনভাবে ফার্মেসি পেশার সাথে জড়িত রয়েছেন।

তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মর্যাদাপূর্ণ ‘The William Clinton Presidential Foundation’-এর একজন আজীবন দাতা সদস্য।

সমাজসেবা ও শিক্ষানুরাগে অনন্য অবদান

মাতৃভূমির প্রতি গভীর টান এবং গ্রামীণ জনপদের মানুষের আত্মসামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে তিনি ২০০২ খ্রিষ্টাব্দে ‘বাসকস’ (BASCOS) নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। এলাকার এমন কোনো স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দির বা সামাজিক প্রতিষ্ঠান নেই যেখানে ড. বাকারের আর্থিক অনুদান পৌঁছায়নি।

খুলনা ও যশোরের ৪-৫টি উপজেলার অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো তাঁর একক অর্থায়নে নির্মিত হয়েছে। উচ্চশিক্ষার প্রসারে তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগে ‘ড. এস. কে বাকার সেমিনার লাইব্রেরী’, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরীতে ‘বাকার গ্যালারী’ এবং ১০ লক্ষ টাকার ‘বাকার শিক্ষা উন্নয়ন ট্রাস্ট’ গঠন করেছেন। এছাড়া প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জন্য বিশুদ্ধ পানির সুব্যবস্থা, বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধের জন্য একাধিক ক্লিনিক পরিচালনা এবং যুব সমাজকে সুস্থ সংস্কৃতিতে যুক্ত করতে ‘বাকার সুর ও সঙ্গীত একাডেমী’ প্রতিষ্ঠা করেছেন।

শিক্ষাদর্শন ও কলেজ প্রতিষ্ঠা

ড. বাকার বিশ্বাস করেন, প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে হলে গ্রামীণ শিক্ষার মানোন্নয়ন ও পরিবেশের গুণগত পরিবর্তন অপরিহার্য। অর্থাভাবে যেন কোনো দরিদ্র ও মেহনতী মানুষের সন্তান উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়, সেই মহান ব্রত নিয়ে তিনি নিজ জন্মভূমিতে ১৫ একর নিজস্ব ভূমির উপর সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত মনোরম পরিবেশে গড়ে তুলেছেন ড. এস. কে বাকার কলেজ

প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আজ অবধি শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে বই, পোশাক, উপবৃত্তি প্রদান এবং বিনা বেতনে অধ্যয়নের সুযোগসহ প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় ব্যয়ভার তিনি নিজেই বহন করে চলেছেন। তাঁর মূল লক্ষ্য ও দূরদর্শী স্বপ্ন হলো— এই কলেজটিকে পর্যায়ক্রমে একটি আন্তর্জাতিক মানের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা এবং এখান থেকে সুনাগরিক, দেশপ্রেমিক ও আলোকিত মানুষ তৈরি করা।

Scroll to Top